সারাদেশ

গাড়ির ব্যবসায় নতুন আশা

  প্রতিনিধি 29 June 2022 , 6:36:48 প্রিন্ট সংস্করণ

গাড়ির ব্যবসায় নতুন আশা

যাতায়াত–সুবিধার কারণে দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের অনেকে এখন ব্যক্তিগত গাড়ি কিনবেন। ফলে আশা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে গাড়ি আমদানি অন্তত ১০ শতাংশ বাড়বে।

মো. হাবিব উল্লাহ, সভাপতি, বারভিডা

দেশে কয়েক দশক ধরে রিকন্ডিশন্ড মোটরগাড়ি আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ করছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সদস্যরা। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে।

বারভিডার সাবেক সভাপতি ও হকস বে অটোমোবাইলসের মালিক আবদুল হকের মতে, পদ্মা সেতু হওয়ায় গাড়ির বাণিজ্যে অবশ্যই একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, দূরত্ব ও জ্বালানি খরচ কমায় গাড়ির দামও কিছুটা কমা উচিত। এতে একদিকে গাড়ির আমদানি ও বিক্রি বাড়বে, অন্যদিকে মোংলা বন্দরের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়বে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমবে।

বারভিডার বর্তমান সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ মনে করেন, ‘এখন কোনো সময়ক্ষেপণ ছাড়াই কম খরচে মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি ঢাকায় আনা যাবে। এতে গাড়ি বিক্রি আগের চেয়ে বাড়বে। বিশেষ করে যাতায়াত–সুবিধার কারণে দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের অনেকে এখন ব্যক্তিগত গাড়ি কিনবেন। ফলে আশা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে গাড়ি আমদানি অন্তত ১০ শতাংশ বাড়বে।’

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মোংলা বন্দরের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমেছে। ফলে গাড়ি আমদানি ও স্থানীয় বাজারে তার বিক্রি বাড়বে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

দেশে নতুন ও রিকন্ডিশন্ড—দুই ধরনের গাড়িই বিক্রি হয়। তবে নতুনের তুলনায় দাম কম হওয়ায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির গ্রাহকই বেশি। বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জাপানে এক থেকে পাঁচ বছর চলার পর বাংলাদেশে এসব গাড়ি আসে। দেশে প্রধানত জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের এলিয়ন, প্রিমিও, ফিল্ডার মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করা হয়। বর্তমানে গাড়ির বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। অন্যদিকে বাজারে হোন্ডা, মিতসুবিশি, হুন্দাই, সুজুকি, টাটা, মাহিন্দ্রাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি বিক্রি হয়।

বারভিডার সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ জানান, দেশে নতুন ও রিকন্ডিশন্ড মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার গাড়ির বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার। তাই ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আরও বেশি পরিমাণে ঋণসুবিধা দিলে গাড়ির বাজার আরও বড় হবে।

করোনার শুরুতে গাড়ির ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে বিক্রি আবার বৃদ্ধি পায়। এ খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার আগে নতুন ও রিকন্ডিশন্ড মিলিয়ে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ হাজার গাড়ি আমদানি হতো। করোনার শুরুতে আমদানি নেমে আসে ১২ হাজারে। করোনার প্রভাব কিছুটা কমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে গাড়ি কেনার পরিমাণ বেড়েছে। এ ছাড়া গত ২০২১–২২ অর্থবছরের বাজেটে হাইব্রিড গাড়ি ও মাইক্রোবাস আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছিল, যার প্রভাবে গাড়ি আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বারভিডা জানায়, গত এক বছরে দেশে ২২ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়েছে।

খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার–সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ির দাম বেড়েছে। ডলার–সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি গাড়ি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নগদ মার্জিন রাখার নিয়ম করেছে। এতে গাড়ির দামে প্রভাব পড়েছে।

বারভিডার সাধারণ সম্পাদক ও এইচএনএস অটোমোবাইলসের মালিক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, গাড়ির দাম এখন অস্থিতিশীল। গত তিন–চার মাসে গাড়ির দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। ৩০ লাখ টাকার গাড়ির দাম অন্তত ৩ লাখ টাকা বেড়েছে।

এ ছাড়া ২০২২–২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুই হাজার সিসির ইঞ্জিনক্ষমতার ওপরের গাড়িতে বাড়তি শুল্কারোপ করেছে সরকার। এতে বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার গাড়ির দাম আরও বাড়বে বলে মনে করেন বারভিডার সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ। তিনি বলেন, বাড়তি শুল্কের কারণে মডেল ও সিসি ক্ষমতাভেদে গাড়িতে ৪ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।

বাজেটে বাড়তি শুল্ক আরোপের কারণে ক্রেতাদের ওপর দামের চাপ বাড়বে বলে মনে করেন বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হকও। তিনি বলেন, ডলারের দাম বাড়ায় এমনিতেই গাড়ির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে বাড়তি শুল্ক যোগ হলে ক্রেতাদের ওপর আরও চাপ বাড়বে।

আরও খবর 6

Sponsered content