লাইফ স্টাইল

জাতীয় আয়ে ভূমিকা রাখলেও জেলেদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি

  প্রতিনিধি 29 June 2022 , 8:34:43 প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু বিপদাপন্ন উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়, সরকারি সুরক্ষা সেবায় প্রবেশাধিকার ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথিরা। গতকাল বরিশাল পুলিশ লাইনস এলাকার একটি হোটেলে

সেমিনারে বরিশালের বেশ কয়েকজন সমুদ্রগামী ও নদ-নদীর জেলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সেমিনারে তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। সদরের লাহারহাট এলাকার সমুদ্রগামী জেলে আবুল মোল্লা বলেন, গত দুই বছরে নিষেধাজ্ঞা পালন করতে গিয়ে তিনি ১২ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। পরিবার নিয়ে এখন চরম দুর্দশার মধ্যে আছেন। মাছ ধরে যে টাকা আয় করেন, তা দিয়ে ঋণশোধ করে হাতে কিছু থাকে না। ফলে দুর্দশা তাঁদের ছাড়ছে না।

‘জলবায়ু বিপদাপন্ন উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়, সরকারি সুরক্ষা সেবায় প্রবেশাধিকার ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজক ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইসিডিএ)। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ার জাহিদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) মো. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রেজাউল হাসান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি টুনু কর্মকার, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কহিনূর বেগম প্রমুখ। সেমিনারটির সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকর্মী শুভংকর চক্রবর্তী।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ১ নম্বর ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ। সরকারের ভালো ব্যবস্থাপনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে এর পেছনে জেলেদের অবদান, ত্যাগ সবচেয়ে বেশি। জেলেরা বছরের ১৪৮ দিন মাছ না ধরে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের যে সুরক্ষা দিচ্ছেন, সে অনুযায়ী তাঁরা প্রণোদনা পাচ্ছেন না। সরকার খাদ্য সহায়তার যে প্রণোদনা দিচ্ছে, তাতে নিবন্ধিত জেলেদের সবাই এর আওতায় আসেন না। আবার অনেকে জেলে নন, তাঁরাও এই সহায়তা পাচ্ছেন বলে মাঠপর্যায়ে অভিযোগ আছে। একই সঙ্গে সমুদ্রগামী জেলেদের বিমা না থাকায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে তাঁরা মৃত্যুবরণ করলেও কোনো আর্থিক সহায়তা পায় না পরিবার। আবার ঝড়ে চিরতরে নিখোঁজ হলেও আইনি জটিলতার কারণে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তাঁদের পরিবার সরকারি কোনো সহায়তার আওতায় আসে না। এ জন্য আইন সংশোধনেরও দাবি তোলেন বক্তারা।

বক্তারা বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে আছে, ত্রুটিপূর্ণ তালিকা সংশোধন করে খাদ্যসহায়তা বৃদ্ধি; নিষেধাজ্ঞাকালীন মাসে ৮ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, সব ট্রলারকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, জেলেদের বিমার ব্যবস্থা করা; সমুদ্রগামী জেলেদের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম নিশ্চিত করা; গভীর সাগরে আবহাওয়ার সংকেত প্রচারের ব্যবস্থা করা; সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও খাসজমিতে পুনর্বাসন করা।

আরও খবর 4

Sponsered content