আরও

ডলার–সংকট এখন আরও প্রকট

  প্রতিনিধি 29 June 2022 , 5:33:35 প্রিন্ট সংস্করণ

এবারে ঈদের আগে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ে সুবাতাস নেই। কারণ, হুন্ডিতে পাঠালে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম মিলছে।

স্থানীয় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের সংকট এখন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ব্যাংকগুলো ৯৭ টাকায়ও এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার পাচ্ছে না। ফলে ৯৯ টাকা পর্যন্ত দাম দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে ঈদের আগে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ে যে সুবাতাস আসে, এবার তা–ও নেই। কারণ, হুন্ডিতে পাঠালে প্রতি ডলারের বিনিময়ে এখন ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম মিলছে। এর ওপর বাড়িতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার ডলারের দাম আরও ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। ফলে প্রতি ডলারের দাম ৯২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। নতুন দামে গতকাল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দামেই আমদানি দায় পরিশোধের অনানুষ্ঠানিক নির্দেশ রয়েছে। যারা এই নির্দেশ না মেনে আমদানিকারকদের কাছে বাজারদরে বিক্রি করছে, তাদের ভালো মুনাফা হচ্ছে। কারণ, তারা ৯৮-৯৯ টাকা দরে ডলার বিক্রি করছে। অন্যদিকে যেসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে, তারা লোকসান গুনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ডলারের সংকট কাটাতে বিলাসপণ্য আমদানিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ হতে পারে। বিশেষ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণ বন্ধ ও শতভাগ মার্জিন আরোপ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ক্রমাগত ডলার–সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দফায় দফায় এটির দাম বাড়াচ্ছে। ফলে গত দুই মাসে প্রতি ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সায় উঠেছে। এটাকে আন্তব্যাংক দাম বলে উল্লেখ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও ব্যাংকগুলোতে এই দামে কোনো ডলার লেনদেন হচ্ছে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ডলারের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫০ পয়সা। এই দামে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) ডলার বিক্রি করা হয়েছে।