চাকরি

সুনামগঞ্জে বন্যা, চরম সংকটে ব্যবসায়ীরা

  প্রতিনিধি 29 June 2022 , 8:04:46 প্রিন্ট সংস্করণ

ভেসে গেছে হাজার কোটি টাকার মাছ

সুনামগঞ্জের মানুষের একটা বড় অংশ মাছ ধরা ও মাছ চাষে যুক্ত। জেলায় ২৫ হাজার ১৭৩টি পুকুর আছে। সব কটি ভেসে গেছে বানের পানিতে। মাছচাষি আছেন ১৬ হাজার ৫০০ জন। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, পোনা ভেসে গেছে প্রায় ১০ কোটি। এ ছাড়া খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার।

ডুবল বোরো-আউশ

এবার সুনামগঞ্জে তিন দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাওরের কৃষক। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে পাহাড়ি ঢলে ছয় হাজার হেক্টর বোরো, দ্বিতীয় দফা মে মাসের মাঝামাঝি বন্যায় আরও প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো এবং সর্বশেষ এই বন্যায় ১১ হাজার ৪০৩ হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় আউশের বীজতলার ক্ষতি হয় প্রায় ২০০ হেক্টর। সবজি ও বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, বন্যায় মাঠে গেছে আউশ ধান, আর ঘরে পানিতে নষ্ট হয়েছে গোলায় রাখা বোরো।

বালু-পাথর ব্যবসায় ভাটা

সুনামগঞ্জে ব্যবসার মধ্যে অন্যতম হলো বালু–পাথর। এসব বালু ও পাথর ব্যবসায়ীরা তুলে বড় বড় স্তূপ করে রাখেন নদীর তীরে। বন্যায় অনেকের বালু-পাথর ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসার নানা যন্ত্রপাতি। শহরের বনানীপাড়া এলাকায় বালু-পাথর ব্যবসায়ী কবির আহমদ বলেন, নদীতীরে পাথর ভাঙার কল, বালু নৌকায় তোলার মেশিন—সব ১৫ দিন ধরে পানির নিচে।

ক্ষতবিক্ষত সড়ক

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ধস দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু। টানা চারদিন সুনামগঞ্জ সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে আছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২ হাজার কিলোমিটার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৮৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে। টাকার অঙ্কে এই ক্ষতি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ওপরে। সড়কের ক্ষতি আরও বাড়বে।

গৃহহীন হাজারো মানুষ

বন্যায় মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন ঘরবাড়ি নিয়ে। বেশি পানির সঙ্গে একদিকে স্রোত, অন্যদিকে হাওরের ঢেউয়ে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, শ্রমজীবী, দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়িরই বেশি ক্ষতি হয়েছে। সরকার পাশে না দাঁড়ালে, এসব মানুষের খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

সুনামগঞ্জের অর্থনীতি আগের গতিতে ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ দরকার বলে মনে করেন খায়রুল হুদা। তিনি বলেন, যেসব ব্যবসায়ীর ব্যাংকঋণ আছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।